জোর করে বিয়ে দেওয়ায় গাংনীতে কিশোরী নববধুর আত্মহত্যা!

আইন ও আদালত, শিক্ষা ও সাহিত্য, স্বাস্থ্য

এম চোখ ডট কম, গাংনী:

পরিবার থেকে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। কিন্তু তাতে অমত ছিল দশম শ্রেণির ছাত্রী কিশোরী মিতা খাতুনের। তার আশা আকাংখা কোন অবস্থায় পাত্তা দিচ্ছিলো না পরিবার। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ায় বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় মিতা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। রোববার রাতে জোরপূর্বক তাকে বিয়ে দেওয়ার পর সোমবার দুপুরে আত্মহত্যা করে মিতা। স্থানীয় বিভিন্ন সুত্র এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।
ঘটনাটি গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে সোমবার বিকেলে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, কাজিপুর গ্রামের চেয়ারম্যান পাড়ার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের ইন্নাল হোসেনের নাতি মিতা খাতুনের বিয়ে হয় রোববার রাতে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। সোমবার দুপুরে স্বামীর শয়ন কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না জড়িয়ে সে আত্মহত্যা করে। পরিবারের লোকজন টের পেয়ে পুলিশের খবর দেয়। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিবারের লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মিতার মা ও বাবার ডিভোর্স হলে তারা দু’জনে বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। মিতার দায়িত্ব নেয় তার নানার পরিবার। সেখাইে সে লেখাপড়া করছে। সম্প্রতি বিয়ের কথা হলে সে চরম আপত্তি জানায়। বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজে এনে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান জানান, এ বিষয়ে গাংনী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।