সেই রানা এবার নরওয়েতে

অন্যান্য, ছবি

 এম চোখ ডট কম (গাংনী, মেহেরপুর): ইচ্ছে শক্তি আর সাধনা যে মানুষকে কত উপরে নিয়ে যেতে পারে তা আবারো প্রমাণ করলেন রফিকুর রশিদ রানা। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে উচ্ছ শিক্ষার জন্য সে এবার নরওয়েতে পৌঁছেছে। মেধা দিয়ে নরওয়ে সরকারের উচ্চ শিক্ষা বৃত্তিতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ইস্ট দ্বিতীয় মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছে। রফিকুর রশিদ রানা গাংনী শহরের মুদি ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমানের ছেলে। তার বাড়ি চৌগাছা গ্রামে। পিতার ও পরিবারের উৎসাহে রানা মেরিন ইঞ্জিরিংয়ে ভর্তি হয়েছিল। বিশ্বের শান্তির দেশ বা নিশিথ সূর্যের দেশ হিসেবে পরিচিত নরওয়ে। সেখানে ইউনিভার্সিটিতে লেখাপাড়ার সুযোগ শুধু সৌভাগ্যেরই নয় বড় সম্মানের। লেখাপড়া শেষ করে মেরিন সেক্টরে দেশের জন্য কিছু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন রানা। মুদি ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমানের স্বপ্ন ছিল ছেলে ব্যতিক্রমি বড় কিছু করবে। স্বপ্ন পুরুণে তিনি মাধ্যমিক লেবেল থেকে ছেলেকে তৈরী করতে থাকেন। এইচএসসি পাশের পর ২০১২ সালে স্বপ্নের দোলাচলে রানা ও তার পরিবার। অবশেষে ২০১৩ সালে মেরিন ফিজারিশ একাডেমীতে ভর্তির সুযোগ পায়। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ফাস্ট ক্লাস পায় সে। মেধার কৃত্বি দিয়ে অর্জন করে অনেক পুরস্কার। এর পরে মাস্টার্স ইন পোর্ট অ্যান্ড শিপিং ম্যানেজমেন্টে ফাস্ট ক্লাস অর্জন করেন। এতো কিছুর পরেও সরকারী চাকুরী নামক সোনার হরিণ অধরা থেকে যায়। চট্রগ্রাম বন্দরে চাকুরী শুরুর ২০ দিনের মাথায় ঢাকায় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকুরীতে যোগ দেন। তবে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন তার মনের কোণে বার বার উঁকি দিতে থাকে। সাথে পিতামাতার উৎসাহ। এক পর্যায়ে আসে সেই মাহিন্দ্রক্ষণ। রফিকুর রশিদ রানা বলেন, মেরিটাইম সেক্টরে আমাদের দেশও উন্নতির পথে। শুধু দরকার সঠিকভাবে দক্ষ জনবল প্রয়োগ। দেশের এই উন্নয়ন যাত্রায় আমিও নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে আত্মনিয়োগ করতে চাই। তিনি সকলের কাছে দো’আ কামনা করেন। এ বিষয়ে রানার গর্বিত পিতা মুদি ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমান বলেন, ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করা সব পিতারই লক্ষ্য থাকে। আজ আমাদের সে স্বপ্ন পুরুণ হতে যাচ্ছে। সাধারণ একজন মুদি ব্যবসায়ী হয়ে ছেলেকে যে এখানে পৌঁছুতে পেরেছি এর জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আর যারা সহযোগীতা করেছেন সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।