মুজিবনগরের সাথে দামুড়হুদা উপজেলার চলাচল পথে নজরদারি

ছবি, বিশেষ

এম চোখ ডট কম, মেহেরপুর:

ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে চলাচলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্ত এলাকার সাথে যাতায়াত সীমিত করার লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার ১ জুন সন্ধ্যায় মেহেরপুর-আটকবর সড়কের মহাজনপুর কলেজের সামনে এবং মুজিবনগর-দর্শনা সড়কের ঢোলমারীতে রাস্তায় ব্লক বসানো হয়েছে। দু’টি জেলার মধ্যে চলাচলকারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করবে এখানে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ, পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকার।

মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, মুজিবনগর উপজেলায় করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর বিস্তার রোধকল্পে দামুড়হুদা উপজেলা হতে মুজিবনগর উপজেলার প্রবেশপথসমূহে নজরদারী বৃদ্ধি ও যাতায়াত সীমিত করার লক্ষ্যে রাস্তায় ব্লক দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন সরকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল আলম, মুজিবনগর থানার অফিসার ইন চার্জ আব্দুল হাশেম ব্লক স্থাপন কার্যক্রম নিশ্চিত করেছেন। বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদ আয়ুব হোসেন ও মহাজনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলুর তত্বাবধানে এ ব্লক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন দিয়ে গেল দুই সপ্তাহ বহু মানুষ ভারত থেকে ফিরে কোয়ারিন্টিনে রয়েছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় বর্তমানে ২৪ জন করোনাভাইরাস পরিজিভ। যাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। এদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ১৪ জন। দামুড়হুদা উপজেলার শেষ প্রান্তের চন্দ্রবাস, হরিরামপুর, হুদাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে থাকেন। ফলে দামুড়হুদা উপজেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে তা মুজিবনগর উপজেলার মানুষের মাঝে সংক্রমিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকার বলেন, সড়কের ব্লক দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিনা প্রয়োজনে চলাচলকারীদের নিরুৎসাহিত করা হবে। আর স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদেরকে সহযোগিতার জন্য পুলিশের কয়েকজন সদস্যও থাকবেন।